সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট এর এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম আফতাব আহমেদ

আপডেট:

তাহমিদ লিয়াম,
জেসন গিলিস্পি কিংবা স্টিভ ও’কিফিরা আফতাবকে কখনো ক্ষমা করবেন না হয়তো! ২০০৫ সালে কার্ডিফের সেই ম্যাচটিতে ৪র্থ উইকেটের পতনের পর যখন ক্রিজে আসেন তখন ৩৭ বলে ৪৮ রান দরকার ছিল টাইগারদের। একটা পর্যায়ে ৬ বলে দরকার ৭ রান। প্রতিপক্ষ তখনকার রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া দেখে নির্ভার হওয়ার কোন সুযোগ ছিল না কিন্তু শেষ ওভারে জেসন গিলিস্পির করা প্রথম বলটিই বাউন্ডারির ওপারে পাঠিয়ে এবং এরপরের বলেই সিঙ্গেল নিয়ে তখনকার ক্রিকেট বিশ্বে শাসন করা রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসদের অজিদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সেই ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতে নেয় ৫ উইকেটে। সেটাই ওয়ানডেতে অজিদের বিপক্ষে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র জয়। আর সে জয়ের কারিগর কে? আফতাব।

স্টিভ ও’কিফি কিন্তু সেই ম্যাচটিতে খেলেননি। তাহলে? অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৯ টেস্ট ও ৭ টি-টোয়েন্টি খেলা এই বাহাতি স্পিনার ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম টেস্টের আগে ততদিনে হারিয়ে যাওয়া আফতাবকে স্মরণ করলেন! সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,“এই তোমাদের আফতাব আহমেদ কই? আমি ১ উইকেট আর ৬৫ রান করলেও ম্যাচটা জিততে পারিনি। আফতাব অনেক ভালো খেলেছিল। অনেক ভালো হয়েছিল ম্যাচটা। খেলাটা তো এই স্টেডিয়ামে হয় নি। শহরে না আরও একটা স্টেডিয়াম আছে? ও হ্যাঁ, এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। সব মনে পড়ছে।”

বিজ্ঞাপন

স্টিভ ও’কিফি ২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্লেট পর্বের ফাইনাল ম্যাচটির কথা স্মরণ করেছিলেন। যেখানে আফতাবের ৫৭ রানের ইনিংসটির সামনে বিফলে যায় ও’কিফির অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। কেননা সেই ম্যাচটি অজিরা হারে ৮ রানে।

একসময় জাতীয় দলের এই তারকা ফিনিশারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকটা হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ২০০৪ সালে ১৩ বলে ০ রানের ইনিংসের মাধ্যমে। ২০০৪ সালে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই একটি ম্যাচে মিডিয়াম পেস বোলিং দিয়ে তুলে নেন ৩১ রানে ৫ উইকেট। এবং সেটাই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে কোন বোলারের ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড ছিল!

বিজ্ঞাপন

এরপর ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওয়ানডে জয়ের অন্যতম কারিগরও কিন্তু আফতাব। টাইগারদের শততম ওয়ানডে ম্যাচে আফতাবের প্রথম ওয়ানডে ফিফটির দিনে ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতে যায় ১৪ রানে।

২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক আফতাব। অলক কাপালিকে নিয়ে ম্যাচ উইনিং পার্টনারশীপে আফতাবের ব্যাট থেকে আসে ফিফটি।

২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজকে প্রথমবারের মতো হারানো সেই ম্যাচেও আফতাবের ব্যাট থেকে আসে ৬২* রান।

এরপর ২০০৮ সালে আইসিএল খেলতে যাওয়ার কারণে যেই ১৩ জনকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে বিসিবি তাদের একজন ছিলেন এই আফতাবও। পরবর্তীতে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ফিরলেও আর বেশিদিন টিকেনি আফতাবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ২০১০ সালে এশিয়া কাপের দল থেকে বাদ পড়ার পর আর কখনো জাতীয় দলে ডাক পাননি তিনি।

এর আগ পর্যন্ত খেলা ১৬ টেস্টে ৫৮২ রান ও ৫ উইকেট, ১১ টি-টোয়েন্টিতে ২২৮ রান ছিল আফতাবের। ৮৫ ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৪ ফিফটিসহ মোট ১,৯৫৪ রান আছে, যেখানে সর্বোচ্চ ৯২। পার্ট টাইম বোলিং করে নামের পাশে উইকেট আছে ১২টি।

তবে এই পরিসংখ্যান দিয়ে আফতাবকে বিবেচনা করা যাবে না। এখনো আফতাবের হারিয়ে যাওয়া নিয়ে আফসোস করে অনেক ভক্ত। রিকি পন্টিং তো নাকি এখনো আফতাবের খোঁজ-খবর নেন।

২০১৪-১৫ সালে নিজের সবশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা আফতাব এরপর যোগ দেন কোচিংয়ে। বাংলা টাইগার্সের কোচ হয়ে টি-টেন লিগেও কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। নিজ শহর চট্টগ্রামে তৈরী করেছেন আফতাব আহমেদ ক্রিকেট অ্যাকাডেমি।

আফতাব আহমেদকে মনে রাখার মতো আরও অনেক ইনিংসই আছে কিন্তু ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচটি সবসময়ই আলাদা একটি জায়গা দখল করে রাখবে ভক্তদের হৃদয়ে। কিছুদিন আগেই একটি ইন্টারভিউতে বলেছিলেন তিনি যেই জায়গাতেই যান না কেন, রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে অন্যান্য মানুষও নাকি তাকে শুধু জেসন গিলিস্পির বলে মারা সেই ছক্কাটির কথা তাকে মনে করিয়ে দেয়।

বাংলার ক্রিকেটে হারিয়ে যাওয়া অন্যতম নক্ষত্রগুলোর একটি ফিনিশার আফতাব আহমেদ চৌধুরী ১৯৮৫ সালের ১১ নভেম্বর বন্দরনগরী চট্টগ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন!

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত