Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ আবিদ ও হালিশহর ওসির সর্বাত্মক চেষ্টায় ২ ঘন্টায় বায়েজিদ ফিরে পেল পরিবারকে

আবিদ ও হালিশহর ওসির সর্বাত্মক চেষ্টায় ২ ঘন্টায় বায়েজিদ ফিরে পেল পরিবারকে

আবিদ ও হালিশহর ওসির সর্বাত্মক চেষ্টায় ২ ঘন্টায় বায়েজিদ ফিরে পেল পরিবারকে

হালিশহর প্রতিনিধিঃ
তরুণ প্রজন্মের কাছে সুপরিচিত একটি নাম হল মুহাম্মদ আবু আবিদ, দূর্বার তারুণ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তার কাজের সুনাম দেশ বিদেশ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। তারই হাতেগড়া সংগঠন দূর্বার তারুণ্য এর জনপ্রিয়তা ও মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্যতা দিনকে দিন যেন বেড়েই চলছে।

গত ১২ ই অক্টোবর রোজ সোমবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মুহাম্মদ আবু আবিদ নাস্তা করতে যেয়ে কুলিং কর্ণারে একটি ছেলেকে খুঁজে পান। অবশেষে তিনি জানতে পারেন, ছেলেটির নাম বায়েজিদ। ছেলেটা নিজের মা- বাবার নামটা বলতে পারছিল।আর বাসার ঠিকানা শুধু বলতে পারছিল থানার নামটা।

বায়েজিদ এর পাশে দাঁড়ায় দূর্বার তারুণ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মুহাম্মদ আবু আবিদ। তিনি তৎক্ষনাৎ চেষ্টা করতে থাকেন বায়েজিদকে কিভাবে বাসায় ফেরানো যায়। তারপর তিনি নিজে থানায় নিয়ে যায় শিশুটি কে। অন্যদিকে মুহাম্মদ আবু আবিদ ফেসবুকে নিজ প্রোফাইলে পোস্ট করে দেন,শিশু টির পরিবারের সন্ধান দেয়ার জন্য। তখন থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যপক তোলপাড়।

হালিশহর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম এর সহযোগিতায় খবর পৌঁছে যায় শিশুটির মুখে বলা( তার বাসায়) পতেঙ্গা থানায়। থানার ওসি রফিকুল ইসলামের বিশেষ সহযোগিতায় মাত্র ২ ঘন্টায় বায়েজিদের পরিবারকে খুঁজে বের করা হয়।

মুহাম্মদ আবু আবি তার টাইমলাইনে ব্যক্ত করেছেন তার নিজ অনুভূতিঃ
আমার এক মিশ্র অনুভূতি। তারই ব্যখা করছি
প্রথমে ধন্যবাদ দেই, যে সকল মিডিয়া-প্রেস ও শুভাকাঙ্ক্ষী ভাইয়েরা কল দিয়ে সাহায্য কিভাবে করবেন তা জানতে চেয়েছেন কিংবা পোস্টটি শেয়ার করেছেন।আমি আজ প্রতিদিনকার মত বিকালবেলা বের হয়েছিলাম ঘুরার জন্য। দূর্বার তারুণ্যের সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম জিদানের সাথে একটি কুলিং কর্ণারে নাস্তা করার জন্য বসেছিলাম।দোকানদার আঙ্কেল আমাকে দেখেই বললো যে, আমি তোমাকে মনে মনে খুঁজছিলাম। এ ছেলেটা ওর বাবা-মায়ের নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারছেনা। তুমি একটু দেখ বিষয়টা।

দেখেই ধারনা করেছিলাম বয়স ৭/৮ এর বেশি নয়। শ্যামবর্ণের হলেও মুখে মায়ার ছাপটি বেশি। পাশে এনে বসালাম। প্রথমেই বললাম কিছু খাবি নাকি? বললো, ন। অনেক সাধলাম খেল না।নাম কি? বায়েজিদ হোসেন।বাবার নাম? মিলন হোসেন। মায়ের নাম? রনজু বেগম। দেখলাম বেশ চালাক আর মিশুকও বটে ছেলেটা।
বাসা কোথায়? এয়ারপোর্টের ওদিকে। মাদ্রাসার নাম? তা ঠিক জানি না। তবে আগ্রাবাদের ওদিকে। নিয়ে গেলে চিনতে পারবি? জানি না।

কি করি ভাবছি আমি। বড্ড মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি।পড়ারই কথা, বলি ২/১ কাহিনি। জিজ্ঞেস করলাম কিছু খাচ্ছিস না কেন? সে বললো, আমার কাছে তো টাকা নেই। আর আমি তো ভিক্ষুক না। আমি হেসে বললাম, পাগল এখন খেয়ে নে।তোর পরিবারকে যখন পাব, তখন টাকা দিয়ে দিছ।তারপর কল দিলাম হালিশহর থানার সাব ইন্সপেক্টর মুহাসিন ভাইকে। তিনি বললেন কোন সমস্যা ই নয় এটা নিয়ে আসেন। থানার ওসি রফিক ভাইকেও জানালাম থানায় আসছি, ভাইয়া। ভাইয়া ওয়েলকাম জানালেন।

থানার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পথে বায়েজিদ আমাকে বললো, ভালো ভাইয়া আমার বুক ধুপুর ধুপুর করছে। কেন? ভাইয়া আমি তো কোনদিন থানায় যাই নি। আমাকে জেলে ভরে দিলে? আমি বললাম, তোর ভাই আছে তো। ধূর পাগল।পরে মোবাইল বের করে একটা ভিডিও গান দেখতে দিলাম।

সব বারের মত এবারেও হালিশহর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ভাই সাদরে গ্রহন করলেন। তৎক্ষনাৎ বিষয়টির জন্য পতেঙ্গা থানার ওসিকে ফোন দিলেন। সেকেন্ড অফিসারকে ডেকে বাঁচ্চাটাকে চিপস কিনে দিতে বললেন। তার সাথে ওর রাতের খাওয়ার ব্যবস্থাও করে দিতে বলেন।

বায়েজিদ এর প্রশ্নের কোন শেষ নাই। মুখে রয়েছে মুচকি হাসি। ২ ঘন্টার মধ্যে তার পরিবার ও মাদ্রাসার লোকজন হাজির হয় থানায়। আনন্দে আত্মহারা ছেলেটির বাবা।প্রশাসনকে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা প্রমাণ করে দিয়েছি,তারা চাইলে সব পারে। তার সাথে সাথে আমি যখনি জানতে পারি, মাদ্রাসা টা হালিশহরেই অবস্থিত তখন আমার একটু রাগ হয়। আমি মনে করি মাদ্রাসায় যতই পালিয়ে যাওয়া সচারাচর ঘটুক, স্টুডেন্ট না পাওয়ার সাথে সাথেই তাও স্থানীয় থানায় একটা জিডি করা উচিৎ।

আর বায়েজিদ হয়তো তেমন কোন অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছিল না। হয়তো ভালো ভাইয়ার কথা তার মনে পড়বে। আর আমার মাদ্রাসা কিংবা হারিয়ে যাওয়া শব্দগুলো শুনলেই মনে পড়ে যাবে বায়েজিদের কথা। হয়তো ও তা কোনদিন জানতে পারবে না।

সামজিক এরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেই চলেছেন দূর্বার তারুণ্যের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আবু আবিদ। তার সাথে এবার কাঁধে কাধ মিলালেন প্রশাসন তথা হালিশহর থানার ওসি। এলাকার সর্বস্তরের জনগন এরূপ কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here