ইলিয়াছ সুমন, সন্দ্বীপ প্রতিনিধি:
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারিভাবে সর্বস্তরের জনগনকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হলেও কোনো প্রভাব পড়েনি সন্দ্বীপের হাট বাজার গুলিতে সবকিছু চলছে আগের মতোই। মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ করছেন অনেকেই। বরং দিন দিন স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ছেন বেশিরভাগ মানুষ। ফলে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনি বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকিও।
তবে মাস্ক না পরলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হলেও সরকারের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে নেই কোনো শাস্তির বিধান। তাই শাস্তির কথা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। তাই যেভাবেই হোক সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করেত হবে।
এদিকে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে পরিপত্র জারি এবং তা বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হলেও অনেকেই বলছেন নির্দেশনা সম্পর্কে তারা জানেন না। জানলেও অনেকে মানছেন না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলেন, মাস্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রশাসনের উচিত জেল-জরিমানা করা। তাহলে মানুষ ভয়ে নিয়মিত মাস্ক ফরে চলাফেরা করবে।
এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিসৎকেরা মনে করেন মাস্ক পরা কিন্তু আমাদের জন্য সাংঘাতিক জরুরী। সবাই যদি মাস্ক পরে তাহলে কিন্তু ৯৯ ভাগ নিরাপদ থাকতে পারব। আমি করোনায় আক্রান্ত কিন্তু আপনি আক্রান্ত নন। এখন আমি যদি মাস্ক পরি তাহলে আপনি ৭০ ভাগ নিরাপদ। আর আমি যদি মাস্ক না পরি, কিন্তু আপনি পরেছেন তাহলে আপনি ২৫ ভাগ নিরাপদ। আর আমরা যদি দুইজনই মাস্ক পরি তাহলে আপনি ৯৫-৯৭ ভাগ নিরাপদ। যাদের জরুরী প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হচ্ছে, আসলে আমরা অনেকেই জানি না কে করোনায় আক্রান্ত। তাই আমাদের সকলকেই মাস্ক পরতে হবে। তাহলে আমরা সবাই নিরাপদ থাকতে পারব।
অনেক গুলি মসজিদ ভিত্তিক মত্তবে গাদাগাদি করে ছোট ছোট শিশু দের মাস্ক বিহীন অবস্হায় ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হচ্চে পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহাল্লায় শিক্ষকেরা গাদাগাদি করে অনেক ছাত্র ছাত্রী দের কে প্রাইভেট টিউশনির বাজার বসিয়ে দিয়েছে ।
সরেজমিনে গতকাল সন্দ্বীপের কাজী পাড়া চৌরাস্তা মার্কেট,শিবের হাট, ধোপার হাট পন্ডিতের হাট এনাম নাহার গুপ্তছড়া মালেক মুন্সী বাজার, সেনের হাট কমপ্লেক্স তালতলী নাজির হাট বকতার হাট আকবর হাট সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাস্ক ছাড়া দেদারসে ঘুরছেন অনেকেই। কারো কারো মাস্ক থুতনিতে আটকানো। কেউ আবার নাকের নিচে মাস্ক নামিয়ে রেখে ঘোরাফেরা করছেন। কেউ কেউ আবার মাস্ক খুলে ধূমপান করতে করতে রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। অধিকাংশ রিকশাচালক থেকে শুরু করে শপিংমলের বিক্রেতারাও মাস্ক না পরেই কাজ করছেন।
বিভিন্ন শপিং ও কাপরের দোকান ও বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাস্কহীন ও শারীরিক দূরত্ববিধি লঙ্ঘন করেই চলছে বেচাকেনা। ক্রেতাদের বেশিরভাগের থাকলেও বিক্রেতাদের অনেকের মুখেই মাস্ক নেই। মাস্কের কথা তুলতেই তারা গরমের অজুহাত দেন। মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে এনাম নাহারের ফুটপাতের এক চা দোকানী বলেন, বেশিক্ষণ মুখে মাস্ক রাখলে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই গরমের কারণে মাস্ক খুলে রেখেছি।
দেশের বিভিন্ন স্হানে গরুর হাটে মানুষকে স্প্রে করা হলে ও সন্দ্বীপের কোন হাটে স্প্রের ব্যবস্থা হাট কতৃপক্ষ করে নাই।
এদিকে জনগনকে মাস্ক পড়া বাদ্য করতে আগের মত মাঠে নেই উপজেলা প্রশাসন ও নৌবাহিনী থানা পুলিশ।
করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হয়ে অনেক লোক কে সন্দ্বীপের সাংসদ সহ অনেক ব্যক্তি বর্গ ত্রান উপহার দিল ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতারন করতে কাউকে দেখা যাই নি। তবে দুএক জাইগায় করোনা সামগ্রী বিতারণ করছে সন্দ্বীপ অনলাইন প্রেসক্লাব তবে তা প্রয়জনের তুলনায় নগন্য।
এমতাঅবস্হায় করোনা ঝুঁকি কমানোর জন্য সন্দ্বীপের চার লক্ষ জনগনকে মাস্ক পরা সচেতন করতে সমাজের উচ্চ বৃত্ত মানুষ ও দানশীল ব্যক্তিদের মাস্ক বিতারণ করার আহবান জানিয়েছেন সচেতন সন্দ্বীপ বাসী।